বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:
কুষ্টিয়া পোস্ট ডট কমের জন্য সারা দেশে জরুরী ভিত্তিতে বিভাগীয় প্রধান, জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা career@kushtiapost.com ইমেইল এ সিভি পাঠাতে পারেন।
সংবাদ শিরোনাম :
রোনালদোর গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আল নাসর টিপু-প্রীতি হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পিছাল জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনের নবীনবরণ ও বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হলিউডে অভিষেক হচ্ছে ওবামাকন্যা মালিয়া পঞ্চগড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: রাতে মাঠে নামছে রেনে-এসি মিলান প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন রাজবাড়ীতে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার পথে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা পাবনায় অটোরিকশা-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরভাতা দিতে সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট

তামাকজাত দ্রব্য সেবন করা ইসলামের দৃষ্টিতে কেমন?

ধর্ম ডেস্ক

মহান আল্লাহ খাদ্যদ্রব্যকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—হালাল ও হারাম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করেছেন এবং অপবিত্র বস্তু হারাম করেছেন।’ (সুরা আরাফ: ১৫৭) আরও এরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী, এদেরকে বলে দিন, হালাল ও হারাম কখনো এক নয়; অপবিত্রের আধিক্য তোমাদের যতই চমৎকৃত করুক না কেন।…’ (সুরা মায়েদা: ১০০) যেসব বিষয় হারাম হওয়ার ব্যাপারটি স্পষ্টভাবে কোরআন-হাদিসে উল্লেখ নেই তা খাওয়া জায়েজ। তবে হারাম বস্তুর কাছাকাছি হওয়ার কারণে অনেক বস্তুকে আলেমগণ নাজায়েজ বা মাকরুহ বলেছেন।

উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ধারার আলিমগণ জর্দা-সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য সেবনকে সরাসরি হারাম বলে ফতোয়া দেননি। কারণ এ ব্যাপারে কোরআন-হাদিসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আসেনি। তাই ‘সকল বস্তু মূলত হালাল, যতক্ষণ না হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোরআন-হাদিসের স্পষ্ট দলিল পাওয়া যায়’ নীতির আলোকে তারা একে হারাম বলেন না। তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়া, অপ্রয়োজনীয় খাবার হওয়া ইত্যাদি কারণে মাকরুহ বলেন। দেওবন্দের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘মদ পান করা সম্পূর্ণ হারাম। তা সেবনে মাতলামি সৃষ্টি হয়। পানে খাওয়া তামাকদ্রব্যের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আসেনি, আবার তা সেবনে মাতলামি আসে না, বড়জোর মাথা ঘোরায়। তাই তা সেবন করা মাকরুহ। (দেওবন্দ ডটকম, ফতোয়া: ৩৫৬৫৫)

তবে আরব বিশ্বের অনেক আলিম বিভিন্ন মূলনীতির আলোকে তামাকজাত দ্রব্যসমূহ সেবন করাকে সরাসরি হারাম ফতোয়া দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন—

এতে রয়েছে অনর্থক অর্থ অপচয়। আর ইসলামে অপচয় হারাম। (সুরা ইসরা: ২৭)

এতে রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ইসলামে তা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না।’ (সুরা বাকারা: ১৯৫)

বেশি ধূমপান করলে জ্ঞানশূন্যতা আসতে পারে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যা বেশি সেবন করলে নেশার সৃষ্টি হয়, তা কম সেবন করাও হারাম।’ (তিরমিজি: ১৮৬৫; আবু দাউদ: ৩৬৮১)

এতে দুর্গন্ধ আছে। এই দুর্গন্ধে অধূমপায়ীরা কষ্ট পায়। ইসলামে অন্যকে কষ্ট দেওয়া জায়েজ নেই। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।’ (বুখারি: ৫৬৭৩; মুসলিম: ১৮২)

সিগারেট ও জর্দা পুষ্টিকর বা ক্ষুধা নিবারণমূলকও কিছুই নয় যে মানুষের শরীরের জন্য উপকার হবে। জাহান্নামিদের খাবারের প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘এটি তাদের পুষ্টিও জোগাবে না, ক্ষুধাও নিবারণ করবে না।’ (সুরা গাশিয়া: ৭)

বিড়ি-সিগারেট-জর্দার স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সর্বজনস্বীকৃত। এসব পণ্যের মোড়কেই এগুলোর ক্ষতির কথা লেখা থাকে। গবেষকগণ বলেন, এসবে ‘অ্যালকালয়েড’ ও ‘নিকোটিন’ অধিক মাত্রায় থাকে। কেবল পার্থক্য হলো জর্দায় হালকা সুগন্ধি মিশ্রিত করা হয়। ফলে ধূমপানে ফুসফুস ক্যানসার আর জর্দায় মুখের ক্যানসার হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এসব কারণে অনেক আলিম তামাকজাত দ্রব্য খাওয়া বা সেবনকে হারাম ঘোষণা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Crafted with by Softhab Inc © 2021
error: আমাদের এই সাইটের লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা যাবে না।