বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:
কুষ্টিয়া পোস্ট ডট কমের জন্য সারা দেশে জরুরী ভিত্তিতে বিভাগীয় প্রধান, জেলা, উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা career@kushtiapost.com ইমেইল এ সিভি পাঠাতে পারেন।

বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ চীন ভ্রমণে দর্শনীয় স্থান যেগুলো

পর্যটন ডেস্ক

এশিয়ার বৃহৎ বিচিত্র এবং চমকপ্রদ দেশ হিসেবে জনপ্রিয় চীন। চীনের সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এ দেশের খাবারের বৈচিত্র্য এর প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে।

চীনের সংস্কৃতি এবং তা উদযাপনের ধরন এ দেশের প্রতি আকর্ষিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এখানে রয়েছে বেইজিংয়ের নিষিদ্ধ শহর, প্রাচীন প্রাসাদ, বিখ্যাত দ্যা গ্রেট ওয়াল, হলুদ সাগর যা এশিয়ার ৬,৭০০কিলোমিটার পথ পর্যন্ত বিস্তৃত।

এছাড়াও এখানে আরও রয়েছে অগণিত প্রাচীন উপাসনালয় যা ধর্ম পরিচালনার জন্য তৈরি হয়েছিল।

১. দ্যা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না

চীনের উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক বর্ডারে চায়না রাজ্য এবং চায়নার রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য মূলত এই প্রাচীরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ইউরেশিয়ান প্রান্ত থেকে শুরু করে যাযাবর গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ ঠেকানোর জন্য তখন এই প্রাচীরটি নির্মিত হয়েছিল। চীনের এই প্রাচীর চীনা ভাষায় ‘চ্যাংচেং’ বা ‘লং ওয়াল’ নামেও পরিচিত। পূর্বে শানহাইগুয়ানের দুর্গ থেকে শুরু করে পশ্চিমে জিয়াউগুয়ান পর্যন্ত ৬,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত এই প্রাচীর। প্রাচীর ভ্রমণের সময় হেবেই, তিয়েনসিন এবং বেইজিং এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীন মঙ্গোলিয়া, নিংজিয়া এবং গানসু জায়গাগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন। দ্যা গ্রেট ওয়াল অফ চায়নার গড় উচ্চতা ছয় থেকে আট মিটার। প্রাচীরের প্রাচীনতম দুর্গগুলোর মধ্যে কয়েকটি ৭ম শতাব্দীর, যেখানে সবচেয়ে পরিচিত এলাকাগুলো ২১০ খ্রিস্টপূর্বের কাছাকাছি তৈরি করা হয়েছিল।

২. নিষিদ্ধ শহর এবং ইম্পেরিয়াল প্যালেস, বেইজিং

চীনের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে একটি হলো এই নিষিদ্ধ শহর। যা ইম্পেরিয়াল প্যালেস নামেও পরিচিত। এটি বেইজিংয়ের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। ১২৭১-১৩৬৮ সালে ইউয়ান রাজবংশের রাজত্ব শুরু হয়েছিল। বর্তমানে যে কমপ্লেক্সটি দেখা যায় তার বেশিরভাগই ১৪০৬ এবং ১৪২০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। প্যালেসটি বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। এই প্যালেস ২৪ মিং এবং কিং সম্রাটদের বাসস্থান ছিল, যাদের উপস্থিতিতে সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। শুধুমাত্র সাম্রাজ্যের পরিবার পরিজন এবং তাদের গণিকারা ছাড়া। যদিও সবকিছু দেখতে অনেক সময় লাগবে, কিন্তু হাইলাইটের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সাদা মার্বেল গোল্ডেন রিভার ব্রিজ, হল অফ সুপ্রীম হারমনি। যেখানে রয়েছে ইম্পেরিয়াল সিংহাসন, সূক্ষ্ম সম্রাটের ব্যাঙ্কোয়েট হল এবং প্রাসাদ যাদুঘর যা মিং এবং কিং রাজবংশের শিল্প ও নিদর্শনগুলোর একটি বিশাল সংগ্রহ স্থান।

৩. দ্যা সামার প্যালেস, বেইজিং

বেইজিং থেকে ১৫ কিলোমিটার গেলেই এই দুর্দান্ত সামার প্যালেস রয়েছে। যা সাতশ’ একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে একটি সুন্দর পার্কল্যান্ডের মধ্যে অবস্থিত। এটি চীনের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। প্রাসাদটি ১১৫৩ সালে নির্মিত হয়েছিল। এর বিশাল হ্রদটি ১৪ শতকের ইম্পেরিয়াল গার্ডেনগুলোকে আরও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় করার জন্য বানানো হয়েছিল। এর সুন্দর গ্রেট থিয়েটার এবং তিনতলা কাঠামো বিশিষ্ট হল ১৮৯১ সালে ইম্পেরিয়াল পরিবারের অপেরার শুনার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক থিয়েটার এখনও ঐতিহ্যবাহী চীনা নাটক এবং বাদ্যযন্ত্রের অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৪. লি নদী, গুইলিন ক্রুজিং

গুয়াংজির উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত গুইলিন শহরটি চীনের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামাগুলোর মধ্যে একটি। লি নদীর জন্য বিখ্যাত এই শহর। নদীটি গুইলিন শহর এবং আশেপাশের কার্স্ট পর্বতমালার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। শত শত বছর ধরে এই অনন্য সুন্দর দৃশ্য কবি এবং শিল্পীদের আকৃষ্ট করেছে এবং অগণিত রূপকথার গল্পের বিষয় হয়ে আছে। এটি বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। নদীটির সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রসারিত জায়গা হলো গুইলিন থেকে শুরু করে ইয়াংশুও পর্যন্ত, যেখানে এটি প্রায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাউন্ট অফ ইউনিক বিউটি, এলিফ্যান্ট ট্রাঙ্ক হিল এবং রিড ফ্লুট কেভের মতো রোমান্টিক জায়গাগুলোর মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বয়ে গেছে। এই জায়গাগুলো উপভোগ করার সর্বোত্তম উপায় হলো লি নদীর ধার থেকে একটি ক্রুজ নেওয়া। আপনি ট্যুরিস্ট ক্রুজ জাহাজও নিতে পারেন আবার ছোট বাঁশের পান্টগুলোও নিতে পারেন ভ্রমণের জন্য।

৫. সুঝো, জিয়াংসু-এর ক্লাসিক্যাল গার্ডেন

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক গার্ডেনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে সুঝো ক্লাসিক্যাল গার্ডেনগুলো আপনার চীন ভ্রমণের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলবে। জিয়াংসু প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর সুঝোতে অবস্থিত, এই ক্লাসিক্যাল গার্ডেনটি ১১ শতকে বানানো হয়েছিল। যখন শহরটি এতোটা উন্নত ছিল না তখন এখানে ২৭০টি বা তার বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছিল। আগের টিকে থাকা বা পুনরুদ্ধার করা বাগানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো গার্ডেন অফ লিঞ্জারিং, এটি সাত একর জায়গায় বানানো হয়েছিল। যা ১৮০০ সালে মিং রাজবংশের রাজত্বের সময় তৈরি করা হয়েছিল। চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত বাগানগুলোর মধ্যে একটিতে রয়েছে পুল, বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ভবন, একটি মানবসৃষ্ট পাহাড়, পীচ গাছের একটি খাঁজ এবং একটি সুন্দর রাস্তা যার দেয়ালে খোদাই করা রয়েছে তিন শতাধিক পুরনো চীনা অক্ষর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Crafted with by Softhab Inc © 2021
error: আমাদের এই সাইটের লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা যাবে না।